সারা ঝিকরগাছায় হোম ডেলিভারি — কমপক্ষে একদিন আগে অর্ডার করুন
সব ব্লগ

কাস্টম কেক অর্ডার — নিজের পছন্দমতো কেক বানানোর পূর্ণ গাইড

রোশনি · ২৪ আগস্ট, ২০২৬

কাস্টম কেক অর্ডার — পাইপিং ব্যাগ হাতে অর্ডারের কেক সাজানো হচ্ছে

শপের তালিকায় নেই এমন একটা কেক মাথায় ঘুরছে? সাইজ, ফ্লেভার, ডিজাইন আর লেখা কীভাবে ঠিক করবেন, রেফারেন্স ছবি কীভাবে পাঠাবেন আর কত আগে বলতে হবে — সব একসাথে।

কাস্টম কেক অর্ডার মানে হলো এমন একটা কেক বানানো, যেটা এখনো কোথাও বানানোই হয়নি — শুধু আপনার মাথায় আছে। মেয়ের প্রিয় হলুদ রঙ, বাবার প্রিয় ফ্লেভার, ছোট ভাইয়ের ক্রিকেট পাগলামি কিংবা বিয়ের তারিখটা কেকের গায়ে লেখা — এসব ভাবনা তালিকা থেকে বেছে নেওয়া যায় না, বলে দিতে হয়। আমাদের ঘরোয়া বেকারিতে প্রতিটা কেক এমনিতেই অর্ডার পাওয়ার পর বানানো হয়, কোনো শোকেসে সাজিয়ে রাখা কেক আমাদের নেই। তাই আপনার ভাবনাটা কেকে রূপ দেওয়ার জায়গাটা আমাদের জন্য কঠিন কিছু নয় — শুধু ভাবনাটা গুছিয়ে বলা দরকার। এই লেখায় ঠিক সেটাই ধাপে ধাপে দেখানো হলো।

কাস্টম কেক অর্ডার আসলে কী — শপ থেকে বেছে নেওয়ার সাথে পার্থক্য

আমাদের শপ পেজে যে কেকগুলো সাজানো আছে, সেগুলো আগে থেকে ঠিক করা কিছু ডিজাইন ও ফ্লেভারের সমষ্টি। ছবি দেখে পছন্দ হলে ওজন বেছে কার্টে দিলেই কাজ শেষ — সিদ্ধান্তটা সহজ, সময়ও কম লাগে। বেশিরভাগ ঘরোয়া জন্মদিনে এটুকুই যথেষ্ট।

কিন্তু কখনো কখনো তালিকার কোনোটাই মন ভরায় না। হয়তো আপনি চান কেকটার রঙ হোক গাঢ় সবুজ, ওপরে বসুক একটা ফুটবল, ভেতরে থাকুক চকলেট আর বাইরে সাদা ক্রিম, আর পাশে লেখা থাকুক একটা নির্দিষ্ট বাক্য। এই জায়গাতেই আলাদা পথে যেতে হয় — ডিজাইনটা আপনার, আমরা শুধু হাতে গড়ি।

গুরুত্বপূর্ণ কথাটা হলো, এখানে কোনো "স্টক" নেই। প্রতিটা কেক ওভেনে যায় আপনার অর্ডারের পরেই, তাই ভেতরের স্পঞ্জ থেকে বাইরের শেষ ফোঁটা ক্রিম পর্যন্ত সবটাই বদলানো যায়। দোকানের কাচের আলমারি থেকে তুলে দেওয়া কেকে এই স্বাধীনতা থাকে না — সেটাই দুটোর মূল পার্থক্য।

  • শপের কেক: ছবি দেখে বেছে নেওয়া, দ্রুত ও সহজ
  • নিজের ডিজাইন: রঙ, আকৃতি, ফিগার, লেখা — সবই আপনার পছন্দে
  • ভেতরের ফ্লেভার আর বাইরের সাজ আলাদাভাবে ঠিক করা যায়
  • কোনো কেকই আগে থেকে বানিয়ে রাখা নয়, প্রতিটাই অর্ডারের পর তৈরি
  • সিদ্ধান্ত জটিল হলে ফোনে কথা বলে গুছিয়ে নেওয়া যায়

কী কী ঠিক করতে হয় — পাঁচটা সিদ্ধান্ত

প্রথম সিদ্ধান্ত সাইজ, অর্থাৎ কত পাউন্ড। এটাই সবচেয়ে বেশি ভুল হওয়া জায়গা, আর এর একমাত্র ভিত্তি হলো অতিথির সংখ্যা। নিচের ভাগে আলাদা করে এই হিসাবটা দেওয়া আছে, তাই আপাতত মনে রাখুন — আন্দাজে নয়, মাথা গুনে ঠিক করুন।

দ্বিতীয় সিদ্ধান্ত ফ্লেভার। ভ্যানিলা, চকলেট, স্ট্রবেরি, ব্ল্যাক ফরেস্ট — কোনটা পরিবারের বেশিরভাগ মানুষ পছন্দ করেন সেটা ভাবুন, শুধু জন্মদিনের মানুষটার পছন্দ নয়। বাচ্চাদের আয়োজনে চকলেট প্রায় নিরাপদ বাজি; বড়দের ভিড়ে ভ্যানিলা বা কম মিষ্টি কিছু বেশি জুতসই হয়। চকলেট কেকের তালিকা দেখে ধারণা নিতে পারেন।

তৃতীয় সিদ্ধান্ত ডিজাইন — রঙ, থিম, ওপরে কী বসবে, ফন্ডেন্ট নাকি ক্রিম ফিনিশ। এখানে যত পরিষ্কার করে বলবেন, ফল তত মনের মতো হবে। "সুন্দর করে দিয়েন" বলার চেয়ে "হালকা গোলাপি ক্রিম, ওপরে সাদা ফুল, কোনো কার্টুন নয়" বলা অনেক কাজের কথা।

চতুর্থ সিদ্ধান্ত কেকের ওপরের লেখা — নাম, বয়স, শুভেচ্ছাবার্তা। বানানটা মুখে না বলে লিখে পাঠান, বিশেষ করে ইংরেজি নাম বা ডাকনাম হলে। আর পঞ্চম সিদ্ধান্ত ডেলিভারির তারিখ ও সময়ের একটা জানালা — "শুক্রবার বিকেল ৪টা থেকে ৬টার মধ্যে" ধরনের নির্দিষ্ট কথা।

যে তথ্যগুলো একসাথে পাঠালে কাজ দ্রুত হয়

অনেকে একটা একটা করে প্রশ্নের উত্তর দেন, তাতে সময় চলে যায়। বরং একটা মেসেজেই লিখে ফেলুন — উপলক্ষ, অতিথি সংখ্যা, পছন্দের ফ্লেভার, রঙ বা থিম, কেকের ওপরের লেখা, তারিখ ও সময়, আর ঠিকানা। এই সাতটা তথ্য পেলে একটা কাস্টম কেক অর্ডার প্রায় সাথে সাথেই চূড়ান্ত করে ফেলা যায়।

কম মিষ্টি, অ্যালার্জি বা বিশেষ প্রয়োজন

বাড়িতে ডায়াবেটিসের রোগী আছেন, কিংবা কারও বাদামে সমস্যা — এমন কিছু থাকলে শুরুতেই বলে দিন। মিষ্টি কমানো, নির্দিষ্ট উপকরণ বাদ দেওয়া বা বিকল্প ব্যবহার করা অনেক ক্ষেত্রেই সম্ভব, কিন্তু সেটা রেসিপির শুরুতেই ঠিক করতে হয়, কেক বানানোর পরে নয়।

কত পাউন্ড কতজনের জন্য — সাইজের সহজ হিসাব

সাইজ নিয়ে দুই ধরনের আফসোস হয়: কেক শেষ হয়ে গিয়ে কয়েকজন খেতে পারলেন না, কিংবা অর্ধেক কেক ফ্রিজে পড়ে থেকে নষ্ট হলো। দুটোই এড়ানো যায় একটা সরল হিসাবে — প্রতি পাউন্ডে মোটামুটি আট থেকে দশজন স্বাভাবিক আকারের স্লাইস পান।

হাফ পাউন্ডের কেক আসলে খুব ছোট — দুই থেকে চারজনের একটা ঘরোয়া মুহূর্তের জন্য। স্বামী-স্ত্রীর নিজেদের মধ্যে উদযাপন, হোস্টেলের রুমমেটদের ছোট আয়োজন কিংবা বাচ্চার প্রথম মাস পূর্তি — এসবে হাফ পাউন্ড মানানসই। বড় আয়োজনে এটা নেওয়া মানে প্রায় সবাইকেই খালি হাতে ফেরানো।

নিচের ছকটা মাথায় রেখে সংখ্যা ঠিক করুন। তবে দুটো ব্যাপার মনে রাখবেন — রাতের খাবারের পরে কেক কাটলে স্লাইস ছোট হয়, তাই একই কেকে বেশি লোক কুলিয়ে যায়; আর বাচ্চাদের ভিড় থাকলে স্লাইস ছোট হওয়াই স্বাভাবিক। সন্দেহ হলে এক ধাপ বড় নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।

  • অতিথি গুনে নিন, আন্দাজ করবেন না
  • ভরপেট খাওয়ার পরের কেকে স্লাইস ছোট হয়
  • বাচ্চা বেশি হলে একই কেকে বেশি লোক কুলায়
  • দ্বিধায় থাকলে এক ধাপ বড় নিন
  • হাফ পাউন্ড শুধু খুব ছোট আয়োজনের জন্য
ওজনকতজন খেতে পারবেনকোন আয়োজনে মানায়
হাফ পাউন্ড২–৪ জনএকদম ঘরোয়া, দুজনের উদযাপন
১ পাউন্ড৮–১০ জনছোট পারিবারিক জন্মদিন
২ পাউন্ড১৫–২০ জনপরিবার ও কাছের বন্ধুরা মিলে
৩ পাউন্ড২৫–৩০ জনবড় আয়োজন, অফিস বা পাড়ার অনুষ্ঠান
৩ পাউন্ডের বেশি৩০+ জনআগে আলোচনা করে ঠিক করতে হয়

রেফারেন্স ছবি পাঠানো ও কোটেশন পাওয়ার নিয়ম

ভাবনাটা বোঝানোর সবচেয়ে দ্রুত উপায় একটা ছবি। পছন্দের ডিজাইনের এক-দুটো ছবি আমাদের হোয়াটসঅ্যাপে ০১৯৬৩১৬৬০০৪ নম্বরে পাঠিয়ে দিন। সাথে এক লাইনে লিখুন ছবির কোন জিনিসটা আপনার সবচেয়ে ভালো লেগেছে — রঙ, ফুলের সাজ, নাকি ওপরের ফিগারটা। এই এক লাইনেই অর্ধেক ভুল বোঝাবুঝি কেটে যায়।

এরপর আমরা দেখে জানাই কতটা করা সম্ভব। এখানে আমরা সৎ থাকি — হাতে গড়া কেক কোনো ছবির হুবহু নকল হয় না, হওয়া সম্ভবও নয়। ছবিতে যা দেখছেন তার মূল ভাব, রঙ আর গঠন আমরা ফোটাতে পারি, কিন্তু প্রতিটা রেখা মিলিয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি আমরা দিই না। কোনো নির্দিষ্ট খুঁটিনাটি আপনার কাছে জরুরি হলে সেটা আগে বলে দিন, তাহলে সেই অংশে বাড়তি যত্ন নেওয়া হয়।

দাম ঠিক হয় ডিজাইন চূড়ান্ত হওয়ার পর। ভিত্তি দাম শুরু ভ্যানিলা কেকে ৳২৭০ প্রতি পাউন্ড থেকে, আর তার ওপর সাজসজ্জার শ্রম ও উপকরণ অনুযায়ী খরচ যোগ হয়। ওজন অনুযায়ী প্রচলিত দামের পুরো হিসাবটা কেকের দামের পাতায় আলাদা করে দেওয়া আছে। যে দামটা আমরা একবার বলি, সেটাই চূড়ান্ত — ডেলিভারির সময় নতুন কোনো খরচ যোগ হয় না।

  • হোয়াটসঅ্যাপে এক-দুটো রেফারেন্স ছবি পাঠান
  • ছবির কোন অংশটা পছন্দ, এক লাইনে লিখুন
  • রঙ নির্দিষ্ট করে বলুন — "নীল" নয়, "হালকা আকাশি"
  • ডিজাইন চূড়ান্ত হলে তবেই দাম জানানো হয়
  • বলা দামের পর আর কোনো খরচ যোগ হয় না

কত দিন আগে অর্ডার দিতে হবে

সময়ই একটা কাস্টম কেক অর্ডারের সবচেয়ে বড় উপকরণ। সাধারণ ক্রিম ফিনিশ আর সাদামাটা লেখার কেক হলে একদিন আগে বললেই সাধারণত হয়ে যায়, কখনো কখনো একই দিনেও সম্ভব হয় যদি সেদিনের চাপ কম থাকে। কিন্তু যত ডিজাইন জটিল হয়, তত সময় লাগে।

ফন্ডেন্টের ফিগার, থ্রিডি আকৃতি, ছাঁচে গড়া কোনো বিশেষ শেপ বা ছবি ছাপানো কেকের জন্য অন্তত দুই থেকে তিন দিন সময় দরকার। কারণ ফন্ডেন্টের কাজ শুকাতে সময় লাগে, আর তাড়াহুড়ো করলে ফিগার বসে যায় বা ফেটে যায়। দুই স্তরের বা তার বেশি বড় কেকে আরও বেশি সময় ধরে রাখাই ভালো।

উৎসবের মৌসুমে হিসাবটা বদলে যায়। ঈদ, পূজা, ভালোবাসা দিবস কিংবা ইংরেজি নববর্ষের আশপাশে অর্ডারের চাপ অনেক বেড়ে যায়, তখন এক সপ্তাহ আগে বলে রাখলে নিশ্চিন্ত থাকতে পারেন। তারিখটা জানা মাত্রই জানিয়ে রাখুন — ডিজাইন পরে ঠিক করলেও চলে, কিন্তু দিনটা আগে থেকে ধরে রাখা যায়।

কেমন কাজকত আগে বলবেনকেন
সাধারণ ক্রিম ও লেখা১ দিনএকই দিনে বেক ও ফিনিশ সম্ভব
থিম রঙ ও গার্নিশ১–২ দিনউপকরণ জোগাড়ের সময় লাগে
ফন্ডেন্ট ফিগার২–৩ দিনফন্ডেন্ট শুকাতে সময় নেয়
দুই স্তরের কেক৩ দিন বা তার বেশিগঠন ও ভারসাম্যের কাজ
উৎসবের মৌসুম৫–৭ দিনঅর্ডারের চাপ বেশি থাকে

ওয়েবসাইটে অর্ডার নাকি ফোনে — কোনটা কখন

আমাদের ওয়েবসাইটে সত্যিকারের চেকআউট আছে, তাই শপ পেজ থেকে কেক বেছে সরাসরি অর্ডার দেওয়া যায় — রাত বারোটাতেও। শপের কোনো কেক পছন্দ হয়ে গেলে সেটাই সবচেয়ে সহজ পথ, আর চেকআউটের নোটের ঘরে ছোটখাটো বদলের কথা লিখে দেওয়া যায়। অনলাইনে অর্ডারের ধাপগুলো বিস্তারিত জানতে অনলাইন অর্ডারের গাইডটি দেখে নিতে পারেন।

তবে ডিজাইন যদি একেবারে নিজের ভাবনা থেকে গড়তে হয়, ফোনই ভালো। কারণ তখন প্রশ্ন-উত্তরের একটা আদান-প্রদান দরকার হয় — এই রঙে ওই ফুল মানাবে কি না, দুই পাউন্ডে এতগুলো ফিগার ধরবে কি না, সময়ে কুলাবে কি না। লিখিত ফর্মে এই আলোচনাটা টেনে নেওয়া কঠিন।

বাস্তবে একটা কাস্টম কেক অর্ডারে বেশিরভাগ গ্রাহক দুটো পথই মেশান, আর আমরাও সেটাই পরামর্শ দিই। প্রথমে ওয়েবসাইটে ঘুরে ডিজাইনের ধরন আর দামের একটা ধারণা নিন, ডিজাইনের অনুপ্রেরণার জন্য জন্মদিনের কেক ডিজাইনের লেখাটি পড়ে ফেলুন, তারপর ০১৯৬৩১৬৬০০৪ নম্বরে একটা ফোন বা মেসেজ। এতে আপনার প্রশ্নগুলোও ফুরায়, আমাদের কাছেও তথ্য পরিষ্কার থাকে।

অগ্রিম টাকার ব্যাপারটা

ছোট অর্ডারে সাধারণত কেক হাতে পাওয়ার পরই টাকা দিলে চলে। কিন্তু বড় বা বিশেষ ডিজাইনের ক্ষেত্রে কিছুটা অগ্রিম নেওয়া হয়, কারণ ওই কেকের জন্য নির্দিষ্ট উপকরণ আগেই কিনে আনতে হয় আর কেকটা অন্য কারও কাজে লাগে না। বাকি টাকা ডেলিভারির সময়েই। এটা অবিশ্বাসের ব্যাপার নয়, কাজ শুরু করার বাস্তবতা।

ডেলিভারি, পিকআপ আর কেক হাতে পাওয়ার পর

আমাদের রান্নাঘর সরনপুর জামতলা, ঝিকরগাছা, যশোরে। এখান থেকে ঝিকরগাছা, যশোর সদর, নাভারণ, শার্শা, বেনাপোল, গদখালী, আরবপুর, মাহিদিয়া, লাউজানি, মনিরামপুর, রূপদিয়া আর চৌগাছায় নিয়মিত কেক পৌঁছে দেওয়া হয়। দূরত্ব অনুযায়ী সময় আর চার্জে পার্থক্য হয়, তাই আপনার এলাকাটা সার্ভিস এরিয়া পাতায় মিলিয়ে নিন কিংবা ফোনে জিজ্ঞেস করে নিন।

যারা কাছেই থাকেন বা নিজের হাতে কেকটা নিতে চান, তাদের জন্য সেলফ পিকআপের ব্যবস্থা আছে — শুধু আগে থেকে সময়টা ঠিক করে নিতে হয়, কারণ এটা ঘরোয়া বেকারি, সারাদিন খোলা কোনো দোকান নয়। চেকআউটেও পিকআপের অপশন বেছে নেওয়া যায়। নিজে নিয়ে গেলে কেকের বাক্সটা গাড়ির সিটে নয়, সমতল ফ্লোরে রাখুন — সিট ঢালু, ব্রেক কষলে কেক হেলে যায়।

সাজানো কেক হাতে পাওয়ার পর কাটার সময় না হওয়া পর্যন্ত বাক্সেই রাখুন, আর ক্রিমের কেক ফ্রিজে — ডিপ ফ্রিজে নয়। কাটার আধা ঘণ্টা আগে বের করে রাখলে ক্রিম নরম হয়ে স্বাদটা পুরো খোলে। কোনো প্রশ্ন থাকলে বা কিছু জানানোর থাকলে যোগাযোগ পাতা থেকে সরাসরি লিখে পাঠাতে পারেন।

  • ডেলিভারি: ঝিকরগাছা, যশোর সদর, নাভারণ, শার্শা, বেনাপোল, গদখালী সহ আশপাশ
  • সেলফ পিকআপ আগে থেকে সময় ঠিক করে
  • নিজে নিলে বাক্স ফ্লোরে রাখুন, সিটে নয়
  • কাটার আগ পর্যন্ত কেক বাক্সেই থাকুক
  • ক্রিম কেক ফ্রিজে, কাটার আধা ঘণ্টা আগে বাইরে

কাস্টম কেক অর্ডার দেওয়ার আগে যে ভুলগুলো এড়াবেন

সবচেয়ে বড় ভুল হলো দেরি করে ফেলা। মাথায় জটিল একটা ডিজাইন, অথচ ফোন এলো অনুষ্ঠানের আগের সন্ধ্যায় — তখন হয় ডিজাইনে ছাড় দিতে হয়, নয়তো না বলতে হয়। দুটোর কোনোটাই কারও জন্য সুখকর নয়, অথচ দুদিন আগে বললেই সমস্যাটা থাকত না।

দ্বিতীয় ভুল হলো অস্পষ্ট বর্ণনা। "একটু ইউনিক কিছু করে দিয়েন" শুনতে ভালো লাগলেও এতে কাজের কোনো দিকনির্দেশ নেই, আর ফল দেখে দুই পক্ষেরই মন খারাপ হওয়ার আশঙ্কা থাকে। যে কেকটা আপনার কল্পনায় আছে, সেটার রঙ আর ভাবটা অন্তত বলে দিন।

তৃতীয় ভুল হলো ইন্টারনেটের কোনো ঝকঝকে স্টুডিও-ছবি দেখিয়ে হুবহু সেটাই আশা করা। ওসব ছবির অনেকগুলোই পেশাদার আলোয় তোলা, কখনো এডিটও করা। বাস্তব একটা কেক দেখতে বাস্তবের মতোই হয়। আমরা মূল ভাবটা ধরার চেষ্টা করি, আর সেটাই সৎ প্রতিশ্রুতি।

চতুর্থ ভুল হলো নাম বা তারিখের বানান যাচাই না করা। কেকের ওপর একবার লেখা হয়ে গেলে সেটা মুছে নতুন করে লেখা কঠিন, আর ছবিতে ভুল বানানটা চিরকাল থেকে যায়। মেসেজে লিখে পাঠান, একবার নিজে পড়ে দেখুন, তারপর পাঠান।

  • জটিল ডিজাইনে শেষ মুহূর্তের অর্ডার নয়
  • "ইউনিক কিছু" নয় — রঙ ও ভাব বলে দিন
  • স্টুডিও-ছবির হুবহু নকল আশা করবেন না
  • নাম ও তারিখের বানান লিখে পাঠান
  • অতিথি সংখ্যা গুনে তবেই ওজন ঠিক করুন

সচরাচর জিজ্ঞাসা

কাস্টম কেক অর্ডার দিতে কত দিন আগে জানাতে হয়?

সাধারণ ক্রিম ডিজাইনে একদিন আগে বললেই চলে। ফন্ডেন্ট ফিগার, বিশেষ আকৃতি বা ছবি ছাপানো কেকে দুই থেকে তিন দিন, আর দুই স্তরের বড় কেকে তারও বেশি সময় দিলে কাজটা নিখুঁত হয়।

কাস্টম কেক অর্ডারের দাম কীভাবে ঠিক হয়?

ভিত্তি দাম শুরু ৳২৭০ প্রতি পাউন্ড থেকে, তার ওপর সাজসজ্জার শ্রম ও উপকরণ অনুযায়ী খরচ যোগ হয়। ডিজাইন চূড়ান্ত হলে আমরা একটা দাম বলি, আর ডেলিভারির সময় সেটার বাইরে নতুন কোনো খরচ যোগ হয় না।

ছবি পাঠালে কি হুবহু সেই কেকটাই পাব?

হুবহু নয় — হাতে গড়া কেক ছবির একটা রূপান্তর, নকল নয়। রঙ, গঠন আর মূল ভাব আমরা ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করি। কোনো নির্দিষ্ট অংশ আপনার কাছে জরুরি হলে আগে বলে দিলে সেদিকে বাড়তি খেয়াল রাখা হয়।

দুই পাউন্ডের কেকে কতজন খেতে পারবেন?

স্বাভাবিক আকারের স্লাইসে দুই পাউন্ডে মোটামুটি পনেরো থেকে বিশজন হয়ে যায়। খাওয়ার পরে কাটলে বা বাচ্চা বেশি থাকলে আরও কয়েকজন কুলিয়ে যেতে পারে।

অগ্রিম টাকা দিতে হবে কি?

ছোট অর্ডারে সাধারণত দরকার হয় না। বড় বা বিশেষ ডিজাইনের কেকে কিছুটা অগ্রিম নেওয়া হয়, কারণ ওই কেকের উপকরণ আগেই কিনে আনতে হয়; বাকি টাকা ডেলিভারির সময়।

কম মিষ্টি বা ডিম ছাড়া কেক বানানো যায়?

মিষ্টি কমানো বেশিরভাগ ফ্লেভারেই সম্ভব, আগে জানালেই হলো। উপকরণ বাদ দেওয়া বা বদলানোর ব্যাপারটা ফ্লেভারভেদে আলাদা, তাই ফোনে বলে নিশ্চিত হয়ে নেওয়াই ভালো।

নিজের ভাবনার একটা কেক হাতে পাওয়া কঠিন কিছু নয় — শুধু ভাবনাটা পরিষ্কার করে বলতে হয় আর হাতে কয়েকটা দিন সময় রাখতে হয়। কাস্টম কেক অর্ডার করতে চাইলে আগে শপ পেজ ঘুরে ধারণা নিন, তারপর ০১৯৬৩১৬৬০০৪ নম্বরে ফোন বা হোয়াটসঅ্যাপ করুন — রেফারেন্স ছবিটাও ওই নম্বরেই পাঠাতে পারেন। বাকিটা আমাদের রান্নাঘরের কাজ।

আজই আপনার কেক অর্ডার করুন

ঝিকরগাছা থেকে যশোরের আশপাশের এলাকায় তাজা, হাতে তৈরি হোমমেড কেক হোম ডেলিভারি।

আরও পড়ুন

বিয়ের কেক ডিজাইন — গায়ে হলুদ ও বিবাহবার্ষিকীর কেকের সম্পূর্ণ গাইড

কয় স্তর, কোন রঙ, কত পাউন্ড আর কত আগে অর্ডার — গায়ে হলুদ থেকে বিবাহবার্ষিকী পর্যন্ত প্রতিটি আয়োজনের কেক বাছাইয়ের বাস্তব হিসাব।

ভ্যানিলা কেক ডিজাইন — রঙ, ফিনিশ ও স্বাদের পূর্ণাঙ্গ গাইড

সাদা আর প্যাস্টেল থেকে রঙিন থিম — ভ্যানিলা কেকে কোন নকশা কার জন্য, ক্রিম নাকি ফন্ডেন্ট, ভালো স্পঞ্জ চেনার উপায় আর কম খরচে দামি দেখানোর কৌশল।

থিম কেক ডিজাইন গাইড — গাড়ি, স্পাইডারম্যান, ডোরেমন থেকে চকলেট থিম পর্যন্ত

গাড়ি থেকে স্পাইডারম্যান, ডোরেমন থেকে চকলেট ড্রিপ — কোন বয়সে কোন থিম কেক মানায়, ফন্ডেন্ট নাকি ক্রিম, খরচ কতটা বাড়ে আর অর্ডারে কত সময় লাগে।

কাস্টম কেক