সারা ঝিকরগাছায় হোম ডেলিভারি — কমপক্ষে একদিন আগে অর্ডার করুন
সব ব্লগ

কত পাউন্ড কেক লাগবে? কতজন খেতে পারবে ও সাইজের পূর্ণ হিসাব

রোশনি · ২২ জুলাই, ২০২৬

কত পাউন্ড কেক লাগবে — যশোরের ঘরোয়া বেকারির অর্ডারমাফিক তৈরি কেক

অতিথি কুড়িজন, কেক কত বড় নেব? হাফ পাউন্ড থেকে তিন পাউন্ড পর্যন্ত কোনটায় কতজন খেতে পারে, কেকটা আসলে দেখতে কত বড় হয় আর অনুষ্ঠান বুঝে হিসাবটা কীভাবে বদলায় — পুরোটা এক জায়গায়।

অনুষ্ঠানের আগের রাতে সবচেয়ে বেশি যে প্রশ্নটা আমাদের ফোনে আসে সেটা হলো — কত পাউন্ড কেক লাগবে। মানুষজন ফ্লেভার ঠিক করে ফেলেন, রঙ ঠিক করে ফেলেন, এমনকি কেকের ওপরে কী লেখা হবে তাও ঠিক করে ফেলেন; কিন্তু সাইজের জায়গায় এসে থমকে যান। কারণ ওজনের একটা সংখ্যা শুনে মাথায় কোনো ছবি তৈরি হয় না। দুই পাউন্ড মানে ঠিক কতটুকু, সেটা হাতে ধরে না দেখা পর্যন্ত বোঝা মুশকিল। এই লেখাটা সেই ফাঁকটা ভরার জন্য — অতিথির সংখ্যা থেকে শুরু করে কেকটা টেবিলে রাখলে দেখতে কেমন হবে, প্রতিটা ধাপ ভেঙে বলা আছে।

কত পাউন্ড কেক লাগবে — অতিথি সংখ্যা ধরে সরাসরি হিসাব

সবচেয়ে সহজ শুরুটা হলো মাথা গোনা। আন্দাজে "একটু বড় দিয়েন" বলার চেয়ে কাগজে অতিথির নাম লিখে ফেলা অনেক নিরাপদ। যারা আসবেন বলে কথা দিয়েছেন তাদের সংখ্যার সাথে দুই-তিনজন যোগ করে রাখুন — শেষ মুহূর্তে প্রতিবেশী বা আত্মীয় চলে আসাটা আমাদের এদিকে খুবই স্বাভাবিক ঘটনা।

সংখ্যাটা হাতে পেলে নিচের টেবিলটা দেখে নিন। এখানে যে হিসাব দেওয়া আছে সেটা সাধারণ আকারের টুকরো ধরে — অর্থাৎ হাতে ধরে খাওয়া যায় এমন একটা স্লাইস, ছোট প্লেটে দুই-তিন চামচে শেষ হয় এমন নয়। ঘরোয়া আয়োজনে এই মাপটাই সবচেয়ে বাস্তবসম্মত।

ওজনকতজন খেতে পারবেকেমন আয়োজনে মানায়
হাফ পাউন্ড২–৪ জনদুজনের ছোট উদযাপন, ঘরের ভেতরের সারপ্রাইজ
১ পাউন্ড৮–১০ জনছোট পারিবারিক জন্মদিন
২ পাউন্ড১৫–২০ জনপরিবার ও ঘনিষ্ঠ বন্ধুরা একসাথে
৩ পাউন্ড২৫–৩০ জনবড় জন্মদিন, অফিস বা পাড়ার আয়োজন

টেবিলটা মুখস্থ করার দরকার নেই, একটা সূত্র মনে রাখলেই চলে — প্রতি পাউন্ডে গড়ে আট থেকে দশটা সাধারণ টুকরো হয়। তাই অতিথির সংখ্যাকে দশ দিয়ে ভাগ করলে যে সংখ্যাটা পাবেন, সেটাই আপনার পাউন্ড। বিশ জনের জন্য দুই পাউন্ড, ত্রিশ জনের জন্য তিন পাউন্ড। খুব বড় আয়োজনে, ধরুন চল্লিশ জনের বেশি হলে, একটা বিশাল কেকের বদলে দুটো আলাদা কেক নিলে কাটাকাটি আর পরিবেশন — দুটোই অনেক সহজ হয়ে যায়।

  • যারা আসবেন বলেছেন, তাদের সংখ্যার সাথে ২–৩ জন যোগ করে রাখুন
  • প্রতি পাউন্ডে গড়ে ৮–১০টি সাধারণ টুকরো ধরুন
  • ছোট টুকরো করলে একই কেকে আরও কয়েকজন কুলিয়ে যায়
  • ৪০ জনের বেশি হলে একটা বড় কেকের বদলে দুটো কেক ভাবুন
  • কেউ দ্বিতীয়বার নিতে পারেন — সেই সম্ভাবনাটাও ধরে রাখুন

কেকের সাইজ আসলে দেখতে কেমন হয়

ওজন আর আকার এক জিনিস নয়, আর এখানেই বেশিরভাগ ভুল ধারণা তৈরি হয়। এক পাউন্ডের একটা গোল কেক সাধারণত ছয় ইঞ্চির মতো চওড়া হয় আর উচ্চতায় হয় তিন থেকে চার ইঞ্চি — অর্থাৎ একটা মাঝারি থালার ভেতরেই বসে যায়। দুই পাউন্ডে চওড়া হয় আট ইঞ্চির কাছাকাছি, তিন পাউন্ডে নয় থেকে দশ ইঞ্চি। খেয়াল করবেন, ওজন দ্বিগুণ হলেও চওড়া দ্বিগুণ হয় না — বৃত্তের ক্ষেত্রফল ব্যাসের সাথে সরলরেখায় বাড়ে না, তাই দুই পাউন্ডের কেক দেখতে এক পাউন্ডের দ্বিগুণ বড় লাগে না, কিন্তু টুকরো ঠিকই দ্বিগুণ পাওয়া যায়।

গোল নাকি চারকোনা

একই ওজনের একটা চারকোনা কেক গোল কেকের চেয়ে দেখতে ছোট লাগে, অথচ টুকরো বেশি পাওয়া যায়। কারণ চারকোনা কেক সোজা লাইনে কাটা যায়, কোনো অংশ নষ্ট হয় না; গোল কেক কাটলে মাঝখানের দিকে টুকরোগুলো সরু হয়ে আসে। অতিথি বেশি হলে আর দেখানোর চেয়ে খাওয়ানোটা মুখ্য হলে চারকোনা আকৃতি বেছে নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।

ছবিতে কেক বড় দেখায় কেন

ইন্টারনেটে বা আমাদের নিজেদের ছবিতেও একটা কেক প্রায়ই বাস্তবের চেয়ে বড় দেখায়। কারণ ছবি তোলা হয় কাছ থেকে, আর পাশে তুলনা করার মতো পরিচিত কিছু থাকে না। কেকের পাশে একটা চায়ের কাপ বা একটা হাত থাকলে আসল মাপটা বোঝা যেত। তাই ছবি দেখে সাইজ আন্দাজ না করে ইঞ্চির হিসাবটা জিজ্ঞেস করে নিন — আমাদের শপ পেজে প্রতিটা কেকের ওজন লেখা আছে, আর ফোনে জিজ্ঞেস করলে চওড়ার মাপটাও বলে দেওয়া হয়।

উচ্চতাও একটা হিসাব

একই ব্যাসের দুটো কেকের মধ্যে যেটা লম্বা, তাতে ওজন বেশি আর টুকরোও বেশি। কিছু কেকে ভেতরে দুই বা তিন স্তরের স্পঞ্জ থাকে, মাঝখানে ক্রিম বা ফলের পুর — এগুলো একই চওড়ায় অনেক বেশি খাবার ধরে। তাই টেবিলে জায়গা কম থাকলে চওড়া না বাড়িয়ে উচ্চতা বাড়ানো একটা কাজের সমাধান।

অনুষ্ঠানের ধরন অনুযায়ী কত পাউন্ড কেক লাগবে

একই বিশ জন মানুষের জন্য সব সময় একই সাইজ লাগে না — কোন ধরনের অনুষ্ঠান, সেটাও হিসাব বদলে দেয়। ঘরোয়া জন্মদিনে কেকই প্রধান আকর্ষণ, সবাই ভালো একটা টুকরো চান, অনেকে দ্বিতীয়বারও নেন। এই ক্ষেত্রে টেবিলের হিসাবটা হুবহু ধরাই ভালো, বরং সামান্য বেশি নিলে ক্ষতি নেই।

অফিসের আয়োজন সম্পূর্ণ আলাদা। সেখানে কেক কাটা হয় মূলত আনুষ্ঠানিকতার জন্য, টুকরো হয় ছোট, অনেকে কাজের চাপে একটুখানি মুখে দিয়েই রেখে দেন। বিশ-পঁচিশ জনের অফিসে দুই পাউন্ডেই স্বচ্ছন্দে চলে যায়, তিন পাউন্ড নিলে অর্ধেক পড়ে থাকার আশঙ্কা থাকে।

বিয়ে বা গায়ে হলুদের মতো বড় আয়োজনে খাবারের তালিকা লম্বা থাকে — বিরিয়ানি, মিষ্টি, ডেজার্ট সবই থাকে। পেট ভরা অবস্থায় মানুষ কেক নেন অল্প করে, তাই মাথাপিছু হিসাব কমিয়ে ধরা যায়। এসব ক্ষেত্রে অনেকে একটা ছোট কিন্তু সুন্দর সাজানো কেক কাটার জন্য রাখেন আর পরিবেশনের জন্য আলাদা একটা সাদামাটা কেক রাখেন। বিয়ের কেকের ডিজাইন নিয়ে আলাদা লেখাটিতে এই সাজানোর দিকটা বিস্তারিত আছে।

  • ঘরোয়া জন্মদিন — টেবিলের হিসাব হুবহু ধরুন, কেকই মূল আকর্ষণ
  • অফিস বা প্রতিষ্ঠান — এক ধাপ ছোট নিলেই চলে, টুকরো ছোট হয়
  • বিয়ে বা বড় ভোজ — ভরা পেটে কেক কম যায়, মাথাপিছু হিসাব কমান
  • শুধু ছবি তোলা ও কাটার জন্য — হাফ পাউন্ডই যথেষ্ট
  • বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার প্যাকেট দিতে চাইলে এক ধাপ বড় নিন

বাচ্চাদের অনুষ্ঠানে সাইজের হিসাব আলাদা

বাচ্চাদের জন্মদিনে সবচেয়ে বেশি বাড়তি কেক নষ্ট হয়, আর কারণটা সরল — অভিভাবকেরা বড়দের মাপে হিসাব করেন। কিন্তু একটা পাঁচ বছরের বাচ্চা পুরো একটা স্লাইস শেষ করে না। বেশিরভাগ সময় দুই-তিন চামচ খেয়ে ক্রিমটুকু চেটে বাকিটা প্লেটে রেখে খেলতে চলে যায়। তাই বাচ্চাদের সংখ্যাকে অর্ধেক ধরে হিসাব করলেই যথেষ্ট হয়।

বাস্তব একটা উদাহরণ ধরা যাক। ষোলোটা বাচ্চা আর দশজন বড় মিলে ছাব্বিশ জনের একটা অনুষ্ঠান। সরাসরি হিসাব করলে প্রায় তিন পাউন্ড লাগার কথা। কিন্তু বাচ্চাদের ষোলোজনকে আটজনের সমান ধরলে সংখ্যাটা দাঁড়ায় আঠারো — অর্থাৎ দুই পাউন্ডেই কাজ চলে যায়, আর কেক ফেলে দিতে হয় না।

আরেকটা ব্যাপার বাচ্চাদের ক্ষেত্রে খেয়াল রাখার — তারা কেক দেখে যতটা উত্তেজিত হয়, স্বাদে ততটা নয়। তাই খুব বড় কেকের পেছনে খরচ না করে বরং ডিজাইনে মন দিন। একটা দুই পাউন্ডের ভালো থিমের কেক তিন পাউন্ডের সাদামাটা কেকের চেয়ে অনেক বেশি আনন্দ দেয়। থিম বাছাইয়ের ধারণা পেতে জন্মদিনের কেকের ডিজাইন লেখাটা দেখতে পারেন।

মিনি কেক, কাপকেক ও ছোট আয়োজনের সাইজ

সব আয়োজনে গোটা একটা কেক লাগে না। দুজন মানুষের বিবাহবার্ষিকী, অফিসের ডেস্কে একজনের জন্মদিন কিংবা পরীক্ষার ফল ভালো হওয়ার ছোট্ট উদযাপন — এসবের জন্য হাফ পাউন্ডের একটা মিনি কেকই যথেষ্ট। এটা দেখতে ছোট একটা বাটির মাপের হয়, দুই থেকে চারজনে ভাগ করে খাওয়া যায়, আর ফ্রিজে জায়গাও নেয় সামান্য।

কাপকেকের হিসাবটা আরও সোজা, কারণ ভাগ করার ঝামেলাই নেই — একজনের জন্য একটা। ছয়টা কাপকেক মানে ছয়জন, বারোটা মানে বারোজন। বাচ্চাদের স্কুলের অনুষ্ঠানে বা অফিসে সবার হাতে হাতে দেওয়ার জন্য এটাই সবচেয়ে ঝামেলামুক্ত পথ — ছুরি লাগে না, প্লেট লাগে না, কেক গড়িয়ে পড়ার ভয়ও নেই।

কেউ কেউ দুটো মিলিয়েও নেন — কাটার জন্য একটা ছোট কেক আর সবার হাতে দেওয়ার জন্য কয়েকটা কাপকেক। ছবি তোলার মুহূর্তটাও থাকে, পরিবেশনও সহজ হয়। ছোট আয়োজনের এই বিকল্পগুলো নিয়ে কথা বলতে চাইলে যোগাযোগ পাতা থেকে বা সরাসরি ০১৯৬৩১৬৬০০৪ নম্বরে জানিয়ে দিন কতজন হচ্ছেন, আমরা মানানসই একটা হিসাব বলে দেব।

যশোরে হোমমেড কেক ও বেকারির কেকের পার্থক্য

সাইজ নিয়ে এত কথা বলার একটা কারণ আছে — সব জায়গায় আপনি চাইলেই ঠিক যতটুকু দরকার ততটুকু পাবেন না। বেকারির কাচের শোকেসে যে কেকগুলো সাজানো থাকে, সেগুলো আগে থেকেই একটা নির্দিষ্ট মাপে বানানো। আপনার আঠারো জন অতিথি, কিন্তু শোকেসে আছে এক পাউন্ড আর তিন পাউন্ড — তখন হয় কম পড়বে, নয় অনেকটা বাড়তি নিতে হবে।

আমরা ঝিকরগাছার সরনপুর জামতলায় বসে ঘর থেকেই কাজ করি, আর আমাদের কোনো ডিসপ্লে কাউন্টার নেই। প্রতিটা কেক ওভেনে যায় অর্ডার পাওয়ার পরে। এর সবচেয়ে বড় সুবিধাটা এখানেই — আপনি বলতে পারেন দেড় পাউন্ড, বা আড়াই পাউন্ড, বা ঠিক যতটুকু আপনার লাগবে। শোকেস থেকে তুলে দেওয়া কেকে এই স্বাধীনতা থাকে না।

দ্বিতীয় সুবিধা তাজা থাকা। কেক ওভেন থেকে নামার পর যত সময় যায়, স্পঞ্জ তত শুকিয়ে আসে আর ক্রিম তত ভারী হয়ে যায়। শোকেসে দিনভর বসে থাকা কেক আর সকালে বেক হয়ে বিকেলে আপনার হাতে যাওয়া কেক — মুখে দিলেই পার্থক্যটা ধরা পড়ে। উপকরণও আমরা প্রতিটা ব্যাচের জন্য আলাদা করে কিনি, তাই কোন ডিম কবেকার সেটা নিয়ে দুশ্চিন্তা থাকে না।

তৃতীয়ত, ঘরোয়া বেকারিতে কথা বলার সুযোগটা থাকে। কতজন অতিথি, কেমন টেবিল, কতটুকু জায়গা — এসব শুনে সাইজের পরামর্শ দেওয়া যায়। দোকানে গিয়ে সারি সারি কেক দেখে একা একা সিদ্ধান্ত নেওয়ার চেয়ে এটা অনেক সহজ। যশোর সদর, নাভারণ, শার্শা, বেনাপোল, গদখালী, আরবপুর, মাহিদিয়া, লাউজানি, মনিরামপুর, রূপদিয়া আর চৌগাছা — কোথায় কোথায় আমরা পৌঁছাই তার পুরো তালিকা সার্ভিস এরিয়া পাতায় দেওয়া আছে।

  • কোনো কেক আগে থেকে বানিয়ে শোকেসে রাখা হয় না
  • অর্ধেক পাউন্ডের ভগ্নাংশেও সাইজ বলা যায়
  • বেক হওয়া আর হাতে পাওয়ার মধ্যে সময় খুব কম
  • প্রতিটা ব্যাচের উপকরণ আলাদাভাবে কেনা
  • সাইজ নিয়ে কথা বলে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ থাকে

সাইজ ঠিক হলে খরচের হিসাব কোথায় পাবেন

সাইজ চূড়ান্ত হয়ে গেলে স্বাভাবিকভাবেই পরের প্রশ্নটা আসে খরচের। সেটা এই লেখার বিষয় নয়, কারণ ওজন, ফ্লেভার আর ডিজাইন — তিনটা মিলে হিসাবটা তৈরি হয় আর তার জন্য আলাদা একটা পূর্ণ তালিকা আমরা রেখেছি। ভ্যানিলা কেক শুরু হয় প্রতি পাউন্ড ৳২৭০ থেকে, আর ওজন অনুযায়ী পুরো হিসাবটা কেকের দামের পাতায় এক নজরে দেখে নিতে পারবেন।

একটা কথা মনে রাখলে সিদ্ধান্ত সহজ হয় — ওজন বাড়লে খরচ ঠিক সেই অনুপাতে বাড়ে না, কারণ সাজসজ্জার শ্রমের একটা বড় অংশ ছোট আর বড় কেকে প্রায় একই থাকে। তাই দুটো ছোট কেকের বদলে একটা বড় কেক নেওয়া সাধারণত বেশি কাজে দেয়, যদি না আপনার দুই জায়গায় দুটো আলাদা কেক লাগে।

আরেকটা পরামর্শ — সাইজে কাটছাঁট করার চেয়ে ডিজাইনে সরল থাকা ভালো। কম অতিথির জন্য বড় কেক নিলে সেটা নষ্ট হয়, কিন্তু সাধারণ ক্রিম ফিনিশের একটা কেকও সুন্দর করে সাজানো যায়। চকলেট কেকের তালিকা দেখলে বুঝবেন সাদামাটা ফিনিশেও কেক কতটা ভালো দেখাতে পারে।

কত আগে অর্ডার দিতে হবে ও ডেলিভারি

সাইজ ঠিক করার পরের কাজটা হলো সময় হাতে রাখা। সাধারণ ক্রিম ফিনিশের একটা কেক, ওপরে নাম লেখা — এটুকুর জন্য একদিন আগে বলে দিলেই সাধারণত হয়ে যায়। তবে ডিজাইন যদি খুঁটিনাটি হয়, ফন্ডেন্টের ফিগার থাকে বা দুই স্তরের কেক হয়, তাহলে দুই থেকে তিন দিন সময় দরকার। বড় সাইজের কেক ঠান্ডা হতে আর ক্রিম বসতেও তুলনামূলক বেশি সময় লাগে, তাই তিন পাউন্ড বা তার বেশি হলে আগেভাগে বলে রাখাই ভালো।

ডেলিভারির সময় সাইজের একটা ব্যবহারিক দিক আছে যা অনেকে ভাবেন না — বড় কেকের বাক্সও বড় হয়, আর সেটা মোটরসাইকেলে বা রিকশায় বহন করার সময় সমান রাখতে হয়। তাই বড় কেক নিলে ডেলিভারির ঠিকানা আর সময়টা একটু নির্দিষ্ট করে বলে দিন, যাতে অহেতুক ঘোরাঘুরি না করতে হয়। নিজে এসে নিতে চাইলে আগে থেকে বলে রাখলে ঝিকরগাছা থেকে সংগ্রহ করা যায়।

অর্ডারের পুরো ধাপগুলো — কী কী তথ্য একসাথে পাঠালে কাজ দ্রুত হয়, রেফারেন্স ছবি কীভাবে দিতে হয় — সেসব কাস্টম কেক অর্ডারের গাইডে ধাপে ধাপে লেখা আছে। সাইজ নিয়ে সিদ্ধান্ত হয়ে গেলে ওই লেখাটা পড়ে নিলে বাকিটা আর আটকাবে না।

সচরাচর জিজ্ঞাসা

২ পাউন্ড কেক কতজন খেতে পারবে?

সাধারণ আকারের টুকরো ধরলে দুই পাউন্ড কেকে পনেরো থেকে বিশ জন খেতে পারেন। টুকরো ছোট করে কাটলে আরও কয়েকজন কুলিয়ে যায়, আর সবাইকে বড় স্লাইস দিতে চাইলে বারো-তেরো জনেই শেষ হয়ে যাবে। কেকটা চওড়ায় আট ইঞ্চির কাছাকাছি হয়।

হাফ পাউন্ড কেকের সাইজ কেমন হয়?

হাফ পাউন্ড কেক চওড়ায় চার থেকে পাঁচ ইঞ্চির মতো, উচ্চতায় প্রায় তিন ইঞ্চি — একটা মাঝারি বাটির মাপ ধরে নিতে পারেন। দুই থেকে চারজনে ভাগ করে খাওয়ার জন্য এটাই সবচেয়ে মানানসই আকার।

কেকের দাম কোথায় দেখব?

ওজন অনুযায়ী পুরো তালিকাটা কেকের দামের পাতায় আলাদা করে দেওয়া আছে, এক জায়গায় সবটা দেখে নিতে পারবেন।

১ পাউন্ড কেক কি দশজনের জন্য যথেষ্ট?

হ্যাঁ, একটু হিসাব করে কাটলে এক পাউন্ডে দশজন হয়ে যায়। তবে সবাই যদি ভালো একটা টুকরো চান বা কেউ দ্বিতীয়বার নিতে পারেন, তাহলে দেড় পাউন্ড নেওয়াই নিরাপদ। ঘরোয়া অনুষ্ঠানে সামান্য বেশি নেওয়াটা কখনো ভুল হয় না।

বাচ্চাদের অনুষ্ঠানে কত পাউন্ড কেক লাগবে?

বাচ্চাদের সংখ্যাকে অর্ধেক ধরে হিসাব করুন, কারণ তারা পুরো টুকরো শেষ করে না। কুড়িটা বাচ্চার জন্য দুই পাউন্ডই যথেষ্ট, আর সাথে বড়রা থাকলে তাদের সংখ্যাটা পুরোটা যোগ করুন।

অর্ধেক পাউন্ডের হিসাবে যেমন দেড় পাউন্ড অর্ডার করা যায়?

যায়। আমাদের কোনো কেক আগে থেকে বানানো থাকে না, প্রতিটাই অর্ডারের পর তৈরি হয়। তাই দেড় বা আড়াই পাউন্ড — আপনার অতিথি সংখ্যায় যেটা মানায়, সেটাই বলে দিতে পারেন।

সাইজের হিসাবটা আসলে জটিল কিছু নয় — অতিথি গুনুন, দশ দিয়ে ভাগ করুন, অনুষ্ঠানের ধরন আর বাচ্চাদের সংখ্যা দেখে একটু এদিক-ওদিক করে নিন। এতেই কত পাউন্ড কেক লাগবে সেই প্রশ্নের উত্তর মিলে যাবে। তবু দ্বিধা থাকলে ০১৯৬৩১৬৬০০৪ নম্বরে ফোন করে শুধু বলুন কতজন হচ্ছেন আর কী উপলক্ষ — বাকিটা আমরা মিলিয়ে দেব, আর কেকটা বানানো হবে আপনার অর্ডার পাওয়ার পরেই।

আজই আপনার কেক অর্ডার করুন

ঝিকরগাছা থেকে যশোরের আশপাশের এলাকায় তাজা, হাতে তৈরি হোমমেড কেক হোম ডেলিভারি।

আরও পড়ুন

বিয়ের কেক ডিজাইন — গায়ে হলুদ ও বিবাহবার্ষিকীর কেকের সম্পূর্ণ গাইড

কয় স্তর, কোন রঙ, কত পাউন্ড আর কত আগে অর্ডার — গায়ে হলুদ থেকে বিবাহবার্ষিকী পর্যন্ত প্রতিটি আয়োজনের কেক বাছাইয়ের বাস্তব হিসাব।

ভ্যানিলা কেক ডিজাইন — রঙ, ফিনিশ ও স্বাদের পূর্ণাঙ্গ গাইড

সাদা আর প্যাস্টেল থেকে রঙিন থিম — ভ্যানিলা কেকে কোন নকশা কার জন্য, ক্রিম নাকি ফন্ডেন্ট, ভালো স্পঞ্জ চেনার উপায় আর কম খরচে দামি দেখানোর কৌশল।

থিম কেক ডিজাইন গাইড — গাড়ি, স্পাইডারম্যান, ডোরেমন থেকে চকলেট থিম পর্যন্ত

গাড়ি থেকে স্পাইডারম্যান, ডোরেমন থেকে চকলেট ড্রিপ — কোন বয়সে কোন থিম কেক মানায়, ফন্ডেন্ট নাকি ক্রিম, খরচ কতটা বাড়ে আর অর্ডারে কত সময় লাগে।

কাস্টম কেক